বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলার বিল মানেই লাল শাপলার এক অনিন্দ্য সুন্দর রূপের রাজ্য। ভোরসকালের মেঘলা আকাশ আর টিপটিপ বৃষ্টিকে তোয়াক্কা না করেই ছুটে গেলাম প্রকৃতির এই রূপালী সাগরে।
চোখের সামনে তখন এক রূপকথা! টলটলে জলের বুক জুড়ে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা—যেন সীমাহীন এক নান্দনিকতার বিস্তার। মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা লাল সুন্দরীদের রঙিন ছায়া যখন স্বচ্ছ জলের গভীরে পড়ে, তখন এক মায়াবী ইন্দ্রজালের সৃষ্টি হয়। দূর থেকে ভেসে আসা সেই স্নিগ্ধতা যেন মুহূর্তেই নিজের অজান্তে মানুষের সমস্ত ভাবনাকে এক নিমেষে রাঙিয়ে নেয়।
স্বচ্ছ, টলটলে জলের ওপর ভেসে থাকা হাজারও লাল শাপলা যেন সবুজ ক্যানভাসে আঁকা কোনো মহাজাগতিক চিত্রকর্ম। হালকা হাওয়ায় যখন শাপলাগুলো দোল খায়, তাদের সেই অপরূপ প্রতিচ্ছবি জলের গভীরে এক মোহনীয় অনুভূতির জন্ম দেয়—যা এক নিমেষেই কেড়ে নেয় পথিকের সব ভাবনা ও ক্লান্তি।
ক্লান্তি ভুলে যখন বিলে পৌঁছালাম, চোখের সামনে ভেসে উঠল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত টলটলে জলের বুক জুড়ে ফুটে আছে হাজার হাজার লাল শাপলা—সকালরে হালকা আলো আর বৃষ্টির ফোঁটায় সেগুলো যেন লাল গালিচার মতো বিছিয়ে আছে।
ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে যখন বিলের গভীরে প্রবেশ করছিলাম, মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া লাল শাপলাগুলোর মায়াবী প্রতিচ্ছবি স্বচ্ছ জলের গভীরে এক অপার্থিব ইন্দ্রজালের সৃষ্টি করছিল। চারপাশের নিস্তব্ধতা, দেশি পাখির কলকাকলি আর লাল সুন্দরীদের এই অবিরাম খেলা নিমেষেই মানুষের সমস্ত ভাবনার রাজ্যকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। শহুরে জীবনের সমস্ত ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির এমন স্নিগ্ধতায় হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
হয়তো আবারও আসবো, হয়তো আবারও দেখা হবে স্বচক্ষে অথবা স্মৃতির মনিকোঠায় অমলিন হয়ে রবে অনেক অনেকদিন।

0 মন্তব্যসমূহ