Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিশ্ব খাদ্য দিবসে সাতক্ষীরাতে আলোচনা সভা ও স্মারকলিপি পেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি ::

“ সবার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য চাই-খাদ্য অধিকার আইন চাই” সামাজিক সুরক্ষা কর্মসুচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মুল্য কমানোর দাবিতে খাদ্যঅধিকার বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা কমিটির আয়োজনে ১৬ অক্টোবর ২০২৫ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশ এর সভাকক্ষে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 

খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবাধিকার। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ২৫/১ ধারায় প্রত্যেক মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণার প্রেক্ষিতে ১৯৬৬ সালে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে খাদ্য অধিকারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ১৫ (ক) ‘অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা’ এবং ১৮(১) ‘উল্লেখ করা হয় জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি, ২০২০।

স্বদেশ সংস্থার নির্বাহি মাধব চন্দ্র দত্ত এর সঞ্চালনায় এবং ক্রীসেন্ট সংস্থার পরিচালক আবুজাফর সিদ্দিকী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথির বক্তব্য রাখেন সামাজিক ব্যক্তিত্ব ডাঃ নজরুল ইসলাম, সিডো সংস্থার পরিচালক শ্যামল বিস্বাস,উষা সংস্থার পরিচালক মোঃ সামসুজ্জোহা, এািব সাতক্ষীরা জেলা সম্পাদক আনিছুর রহমান, মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক জ্যোৎ¯œা দত্ত, ভুমিহিন নেতা আঃ সামাদ, কৃষক নেতা মফিরুল রহমান, নাগরিক নেতা স্বপন পান্ডে, আশা সংস্থার সভানেত্রী রুপা বসু, যুব নেতা তরিকুল ইসলাম অন্তর, উন্নয়ন কর্মী ফারুক রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয় উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের ৫ লাখের মতো মানুষকে চরম দারিদ্র্যের পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তায় প্রাপ্যতা, অভিগম্যতা, ব্যবহার এবং স্থিতিশীলতা খাদ্য অধিকারের ধারণাগত এবং আইনগতভাবে জোরালো ভুমিকা রাখার প্রস্তাব আসলেও গত এক দশকে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ব্যাপক অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাপক মূল্যস্ফীতির মধ্যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেয়েছে, অনেকেই খাওয়া কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি বিশ^ খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) তথ্যমতে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার প্রথম দিকে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমলেও আগস্ট মাসে দেশের নি¤œ আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছিল। ‘র্যাপিড মার্কেট মনিটর’ শিরোনামে ডব্লিউএফপি’র গবেষণায় উঠে এসেছে, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১৪.০১ শতাংশে ছিল। এছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার কারণে খাদ্য নিরাপত্তায় অবনতি হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিতই থেকে যাচ্ছে, যা আমাদের অধিকারকে ক্ষুন্ন করছে! অথচ আমাদের মৌলিক অধিকারের প্রথমটিই হচ্ছে খাদ্য।

বক্তারা আরও বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বৈষম্য বিরোধী চেতনা-মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার অচিরেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। আশা করি, আপনার অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে যথাযথ অবদান রাখতে উদ্যোগী হবেন। আপনার উদ্যোগী ভূমিকা আমাদেরকে খাদ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরো উৎসাহিত করবে। 


বস্তারিত আলোচনা শেষে সাতক্ষীরা থেকে বিভিন্ন সুপারিশমালা গ্রহন করা হয়:-

- অবিলম্বে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া;

- গ্রাম ও শহরাঞ্চলের প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষ যাতে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, সেজন্য  নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি তাদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা;

- নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি করা:

- বিদ্যমান বৈষম্য হ্রাস করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিসর বৃদ্ধি;

- দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাসহ দারিদ্র্য বিমোচনে বহুমুখী (শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি) কর্মসূচি গ্রহণ;

- খা্েরদ্য পুষ্টিমান নিয়ন্ত্রনে দৃঢ়ভাবে আইনের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা;

- উপকুযলীয় অঞ্চলে লবন সহিস্নু ধান-শষ্য বীজের ব্যবহার ও সরকারি পৃষ্টপোষকতা নিশ্চিত করন;

- খাদ্য অধিকার ইস্যুতে নাগরিক সমাজের সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ছাত্র, গবেষক, যুব, নারী, মৎস্যজীবী, ক্ষুদ্র পারিবারিক কৃষকসহ সকলের জোরালো দাবি/কন্ঠস্বর উত্থাপনের সুযোগে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় বহুবিধ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ